1. admin@voicectg.com : admin :
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন

বিদায় হে বাঙালির অকৃত্রিম বন্ধু, একজন প্রনব মুখার্জি।

ভয়েস সিটিজি অনলাইন ডেক্স
  • প্রকাশিত : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২০
  • ৮৭ বার পড়া হয়েছে

ভয়েস সিটিজি
সম্পাদকীয়
মঙ্গলবার-০১-০৯-২০২০ইং
প্রনব মুখার্জী।
ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি,
ভারতের রাজনৈতিকভাবে পরিচ্ছন্ন ভাবমুর্তির অধিকারী একজন রাজনীতিবিদ।
একাদারে রাজ্যসভার সদস্য,প্রতিমন্ত্রী,প্রতিমন্ত্রী থেকে পুর্নমন্ত্রী,প্রতিরক্ষামন্ত্রী,যোগাযোগমন্ত্রী,পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী, পর্যন্ত হয়েছেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বাঙালির একজন সাহসী এই বন্ধু।
১৯৬৯ সাালে ভারতের রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালে ১৫ (জুন) ভারতের বাজেট অধিবেশন চলাকালে রাজ্যসভার একজন সদস্য হিসেবে,বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
সেদিন প্রনব মুখার্জি বলেছিলেন,
ভারত সরকারের উচিৎ বাংলাদেশের প্রবাসী মুজিবনগর সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া।কিভাবে বাংলাদেশের এই সমস্যার সমধান হতে পারে। গনতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমেই রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব।
রাজনৈতিক সমাধান মানে গনতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে বস্তুগত সহায়তা করা।
ভারতের সংসদকে স্বরন করিয়ে দিতে চায়,
বিশ্ব ইতিহাসে এধরনের ঘটনায় হস্তক্ষেপ করার বহু নজীর আছে।
ভারতের উচিৎ এমুহূর্তে পাকিস্তানকে আক্রমন করা।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ভারতের সংসদের ভেতরও বাহিরে প্রনব মুখার্জির এই ভুমিকা চির স্মরনীয় হয়ে থাকবে বাঙালিদের কাছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্দীর সাথে তার রাজনৈতিক সমপর্কও হয়ে উঠে বাংলাদেশের এই মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই ইন্দিরা গান্দী প্রনব মুখার্জিকে গুরুত্ব দিতে শুরু করেন।
১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রনব মুখার্জিকে প্রথম আস্ত সংসদীয় ইউনিয়নের বৈঠকে ভারতিয় প্রতিনিধি দলের সদস্য মনোনীত করা হয়।
সেই বৈঠকে কাজ ছিলো পৃথিবীর প্রতিটি দেশের প্রতিনিধিদের কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি এবং ভারতের অবস্থান সমপর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করা।
যাতে করে তারা যে যার দেশে ফিরে গিয়ে নিজেদের সরকারকে বিষয়টি অবহিত করতে পারেন।
প্রনব মুখার্জি বিভিন্ন বৈঠকে অসাধারণ ও চমৎকার ভুমিকার কথা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরার কানে পৌঁছেছিলো এবং তিনি খুশি হয়েছিলেন।এরপর একই দায়িত্ব দিয়ে ইন্দিরা গান্ধী প্রনব মুখার্জিকে ইংল্যান্ড ও জার্মান পাটান।
১৯৭২ সালে প্রনব মুখার্জি ভারতিয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগদেন
১৯৭৩ সালে ইন্দিরার মন্ত্রী সভার সদস্য হন
২০১২ সালে ইন্দিরার দলের মনোনয়নেই ভারতের রাষ্ট্রপতি হন প্রনব মুখার্জি।
বাংলাদেশের প্রতি প্রনব মুখার্জির দুর্বলতা অপরিসীম।বিবাহসুত্রে প্রনব মুখার্জি বাংলাদেশের জামাই। তাহার স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জি ছিলেন যশোহরের মেয়ে।
প্রনব মুখার্জির পিতা কামদকিংকর মুখার্জি ছিলেন ভারতের অন্যতমও একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী।
২০১৩ সাালে ৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রনব মুখার্জিকে সাম্মানিক ডক্টরেট অফ ল ডিগ্রি প্রধান করেন।
২০১৩ সালে ৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদানের জন্য বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার,
বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা পান
২০১৯ সালে ২৫ জানুয়ারী ভারতরত্ন পুরস্কারে ভূষিত হন।
বাঙালি হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রনব মুখার্জির আত্বার সমপর্ক রয়েছে।
বলাই চলে যখনই দুঃসময় আসে,প্রতিটা সময় কাছে পেয়েছে বাংলাদেশ- প্রনব মুখার্জিকে
এই মহা বীর করোনা আক্রান্ত হলে নেওয়া হয়,ভারতের রাজধানী দিল্লির সেনাবাহিনীর আর এন্ড আর হাসপাতালে,সেখানে শরীরের অন্যান্ন রোগসহ চিকিৎসায়,দীর্ঘক্ষন অস্ত্রোপাচার হয়েছে।
গতকাল ৩১ আগষ্ট সোমবার অবশেষে ইহত্যাগ করলেন বাঙালির অকৃত্রিম এই বন্ধু প্রনব মুখার্জি
বিদায় অকৃত্রিম বন্ধু, আপনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন,আমৃত্যু বাঙালির হ্নদয়ে, আপনার অবদান কখনও ভুলবার নয়
গভীর শ্রদ্ধাবনত চিত্তে জানাই ও লাল সালাম

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব