1. admin@voicectg.com : admin :
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

৪৯ বছরেও স্বীকৃতি মেলেনি,শহীদ বীর কন্যা ভাগীরথীর।

ভয়েস সিটিজি বার্তা কক্ষ
  • প্রকাশিত : রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৭৫ বার পড়া হয়েছে

ভয়েস সিটিজি
বার্তা কক্ষ
রোববার-সেপ্টেম্বর-১৩-২০২০,

৪৯ বছরেও স্বীকৃতি মেলেনি,শহীদ বীর কন্যা ভাগীরথীর।

১৯৭১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর, ৪৯ বছর আগে আজকের এদিনে পাকহানাদার বাহিনী এ দেশিয় দোসর দালালদের সহায়তায়,
মুক্তিযোদ্ধা ভাগীরথী সাহাকে জিপের সাথে বেঁধে টেনে হিঁচড়ে পিরোজপুর শহরের চৌরাস্তার মোড়ে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করে গুলী করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পাক বাহিনী।

বীর কন্যা ভাগীরথী সাহা,
বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার দেবিপুর গ্রামে ১৯৪০ সালে জম্ম গ্রহণ করেন।
বাবা ছিলেন মুড়ি বিক্রেতা, লেখা পড়ার তেমন সুযোগ হয়নি ভাগীরথীর,১৯৫৬ সালে বিয়ে দেওয়া হয়, প্রিয়নাথ সাহার সঙ্গে,
দুই শিশু সন্তান রেখে ১৯৬৭ সালে প্রিয়নাথ সাহা মারা যান।

১৯৭১ সালের মে মাসে রাজাকারের দল ভাগীরথীকে ধরে স্হানীয় মিলিটারি ক্যাম্পে নিয়ে তার সম্ভ্রমহানী করলে। সে থেকেই দেশের জন্য শহীদি মৃত্যুর প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন তিনি।
দপায় দপায় পাকবাহিনীর পাশবিক শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়া ভাগীরথী। এক পর্যায়ে অভিনয়ে পাকিদের মন জয় করতে সক্ষমহন তিনি।
পাকিসেনা কর্তারাও তাকে বিশ্বাস করে মুক্তি দেন।মুক্তি পেয়েই আবার নিজ ইচ্ছায় ক্যাম্পে যাওয়া আসা শুরু করেন। সেই সাথে নিয়মিত সংবাদ সংগ্রহে যোগাযোগ রাখছেন মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের সাথে।

যারফল শ্রুতিতে আগষ্টের ২৯ তারিখ ও সেপ্টেম্বরে ৯-১০ পর্যায়ক্রমে তিনটা গেরিলা হামলার শিকার হন মেজর এজাজ বাহিনী
একপর্যায়ে হামলার পর হামলার শিকার হতে হতে এজাজ বাহিনী।
ধীরে ধীরে তারা নিশ্চিত হলেন ভাগীরথী মুক্তিযোদ্ধাদের চর। তখন মেজর এজাজ নির্দেশ দিলেন জীবিত কিংবা মৃত ভাগীরথীকে দরিয়ে দিতে পারলে নগদ ১০০০ টাকা পুরস্কার।

আরেকটি অপারেশনের আশায় সেদিনও ভাগীরথী শহরে আসলে। তাকে আটক করে দেলু বাহিনী ক্যাম্পে নিয়ে গেলে,মেজর এজাজ সুবেদার সেলিমকে নির্দেশ দেয় ভাগীরথীকে হত্যা করার।
এরপর দুজন সিপাহি এসে ভাগীরথীর দুই হাত বেঁধে লাতি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়।

সেদিন পশুরা ভাগীরথীর উপর অবিশ্বাস্য হিংস্রতা প্রদর্শন করেছিলো। দিনটি ছিলো হাটবার, তাকে মিলিটারি একটি জিপে বেঁধে টেনে হিঁচড়ে পিরোজপুর শহরের বিভিন্ন অলিগলি ঘুরিয়ে অর্ধমৃত অবস্থায় নিয়ে আসে চৌরাস্তার মোড়ে, প্রকাশ্য উলঙ্গ করে দাড় করিয়ে রেখে চলে যায় পাকি জানোয়ারের দল।

কিছুক্ষণ পর আবার আসে হায়েনার দল তখনও প্রানে স্পন্দন ছিলো অভাগীর। সেটা দেখে আবার গুলীতে ও বেয়নেট দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে হত্যা করে লাশ বলেশ্বর নদীতে নিক্ষেপ করেছিলো ভাগীরথী সাহার৷

দুঃখের বিষয় আজ স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরেও কোথাও মেলেনি।বীর কন্যা ভাগীরথীর সেই আত্বত্যাগের স্বীকৃতি।
ভাগীরথীর দু সন্তানের একজন মারা গেছে বিনাচিকিৎসায়। আরেক সন্তান বর্তমানে স্বাধীন বাংলাদেশের দিন মজুর
বিনম্র শ্রদ্ধা মহীয়সী নারী বীর কন্যা জননী ভাগীরথী

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব