1. admin@voicectg.com : admin :
শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:২০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ফতোয়া সংক্রান্ত জরুরি বৈঠক চলছে ঢাকায় | বান্দারবানে দায়ীত্ব পালনকালে স্ট্রোকে পুলিশের এআইজির মৃত্যু | নানিয়ারচরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ইউপিডিএফ সদস্য নিহত | মারা গেছেন কুন্ডেশ্বরীর লায়ন প্রফুল্ল রঞ্জন সিংস | কুমিল্লায় ৯ তলা ভবন থেকে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যু | পিরামিডের সামনে নগ্নতার দায়ে মডেল সালমা এলশিমি গ্রেপ্তার | সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান,ভোলায় পুরস্কৃত ভয়েস সিটিজি’র ব্যুরো চিফ প্রভাষক রিপন শান | অনুমতি ছাড়া ঢাকায় সভা সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি | বর্তমানে বাংলাদেশে অদৃশ্য অশুভ সংকেত লক্ষ্য করা যাচ্ছে-রানা দাশগুপ্ত | ভয়েস সিটিজি ধর্ম ব্যাবসায়ীদের কাছে ইসলামকে লিজ দেওয়া হয়নি |

ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক বাইডেনের হাতে উঠছে আগামী বিশ্ব নেতৃত্ব

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেক্স
  • প্রকাশিত : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ৯৮ বার পড়া হয়েছে

বুড়ো ট্রাম্পকে হারিয়ে আরেক বুড়ো জো বাইডেনই হতে যাচ্ছেন আমেরিকার ৪৬তম প্রেসিডেন্ট। যদিও তাকে কিছুটা কাঠখড় পুড়াতে হবে বলে মনে হচ্ছে। অপরিচ্ছন্ন, অমিতচারী ট্রাম্পের বিপরীত মেরুর চরিত্র জো বাইডেন। জোসেফ রবিনেট বাইডেন জুনিয়র, যিনি জো বাইডেন হিসেবে পরিচিত। একজন আপাদমস্তক মধ্যপন্থী রাজনীতিবদ।

জো বাইডেনের জন্ম ১৯৪২ সালের ২০ নভেম্বর পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের স্ক্রানটনে। সেই হিসেবে তার বয়স মাত্র ৭৮ বছর। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় বাইডেন বেড়ে ওঠেন স্ক্রানটন, নিউ ক্যাসল কাউন্টি ও ডেলাওয়ারের মধ্যেই। বাবা জোসেফ রবিনেট বাইডেন সিনিয়র আর আইরিশ বংশোদ্ভূত মা ক্যাথরিন ইউজেনিয়া ফিনেগান।

ডেলাওয়ার ইউনিভার্সিটিতে ইতিহাস ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন বাইডেন। পরে তিনি আইনে ডিগ্রি নেন সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটি থেকে।
জো বাইডেন বাচনভঙ্গি দুর্বল হওয়ায় ছোটবেলায় যে ছেলেটি বন্ধুদের হাসির পাত্র হয়েছিলেন, জীবনের বিপর্যয়ের ধকল সইতে না পেরে যে আত্নহত্যার পথ বেছে নিতে চেয়েছিলেন,এমন কি ফার্নেস ক্লিনারের কাজও করতে হয়েছিল — সেই ব্যক্তিটিই ঘুরে দাঁড়িয়ে জীবনের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করে জনতার রায়ে বসতে যাচ্ছেন বিশ্বের অন্যতম শক্তিধর দেশ মার্কিন মসনদে।

লিডার অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ এর আসনে।

যার দুর্বল বাচনভঙ্গির জন্য ছোট বয়সে বন্ধুরা তামাশা করতো,যিনি ২৯ বছর বয়সে সর্বকনিষ্ঠ মার্কিন সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার পরের মাসেই মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রিয়তমা স্ত্রী ও শিশুকন্যা হারানোর ধকল সইতে নাপেরে আত্নহত্যার পথ বেছে নিতে চেয়েছিলেন। বাবার ব্যবসা হারিয়ে একসময় তাকে ফার্নেস ক্লিনারও হতে হয়েছিল। কিন্তু তিনি থামেন নি।তিনি বুঝেছিলেন, বেঁচে থাকতে হলে জীবন সংগ্রামের বিকল্প নেই। এজন্য বেদনাতাড়িত স্মৃতিকে শক্তিতে রুপান্তরিত করে তিনি নিজেকে গড়ে তোলেন।যার ফলশ্রুতিতে একজন ঝানু সিনেটর,
১৯৬৬ সালে সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় বাইডেন নিলিয়া হান্টারকে বিয়ে করেন। তাঁদের ঘরে তিন সন্তান রয়েছেন— জোসেফ আর ‘বিউ’ বাইডেন, রবার্ট হান্টার ও নাওমি ক্রিস্টিনা। ১৯৭২ সালে বড় দিনের আগে ক্রিসমাস ট্রি কিনতে গিয়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিলিয়া নিহত হন।

নিলিয়াকে বাইডেন বলেছিলেন, ৩০ বছর বয়সের মধ্যে তাঁর স্বপ্ন সিনেটর হওয়ার। সিনেটর হওয়ার পরের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়া। তিনি তাঁর লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন। নিলিয়াকে হারানোর এক বছরের মাথায় ১৯৭৩ সালে বাইডেন জিল ট্রেসি জ্যাকবকে বিয়ে করেন। তাঁদের ঘরে অ্যাশলে ব্লেজার নামে এক কন্যা সন্তান রয়েছে।

১৯৭০ সালে ডেলাওয়ারের নিউ ক্যাসল কাউন্টির কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হন জো বাইডেন। এরপর তাঁকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ৩০ বছর বয়সের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয় তাঁর।

১৯৭২ সালের নভেম্বরে তৎকালীন জনপ্রিয় রিপাবলিকান সিনেটর স্যালেব বগসের বিপক্ষে ডেমোক্রেটিক দল থেকে প্রার্থী হন তিনি। তারপর নাম লেখান ইতিহাসে। মাত্র ৩০ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী পঞ্চম সিনেটর নির্বাচিত হন।

ডেলাওয়ার থেকে মোট ছয়বার সিনেটর নির্বাচিত হন জো বাইডেন। সিনেটের বিচার কমিটিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা আইনসহ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি আইন প্রণয়ন করেন তিনি।

২০০৭ সালে আবার নির্বাচনে দাঁড়ান। সেবার বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হন এবং রানিংমেট হিসেবে বেছে নেন বাইডেনকে। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৫ সালে আবারও প্রিয়জন হারান বাইডেন। মস্তিষ্কের ক্যানসারে বড় ছেলে বো বাইডেনের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েন জো। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন পাওয়ার আগেই সরে যান।

ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে নানা উত্থান-পতনের পর ঘুরে দাঁড়ান জো বাইডেন।

বাইডেন পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক আমেরিকান সিনেট কমিটিতে কাজ করেছেন দীর্ঘ দিন। সিনেটের এই কমিটির সভাপতি হিসেবে ২০১২ সালের অক্টোবরে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের ইরাক যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়টিকে অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল তাঁর ওপর।

এর ১১ বছর আগে উপসাগরীয় যুদ্ধের আগে প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডাব্লিউ বুশকে সাদ্দাম হুসেনের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অনুমোদনের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিলেন বাইডেন। বাইডেনের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও উপসাগরীয় যুদ্ধের পক্ষে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং ওই যুদ্ধে আমেরিকান মারা যায় অল্প সংখ্যক।

এরপর থেকে বাইডেনকে পররাষ্ট্র ও জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতির ক্ষেত্রে দুর্বলচিত্তের অধিকারী বলে খাটো করে দেখানো হয়।

ওই ভোট নিয়ে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হওয়ার পরবর্তী কয়েক বছর বাইডেন আন্তর্জাতিক বিষয়ে কট্টর অবস্থান দেখাতে শুরু করেন, যেমন বলকান গৃহযুদ্ধে আমেরিকান অবস্থান, ইরাকে বোমা হামলা এবং আফগানিস্তানে দখলদারিত্ব কায়েমের প্রতি তাঁর সমর্থন প্রকাশ করেন।

প্রেসিডেন্ট জর্জ ডাব্লিউ বুশ ইরাকের কাছে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র আছে এই অভিযোগে যখন ইরাকে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর প্রস্তাব করেন, তখন বাইডেন তাতে জোরালো সমর্থন দিয়েছিলেন।

ইরাক যুদ্ধের পর বাইডেন বামপন্থার দিকে ঝোঁকেন। তিনি ইরাকে আমেরিকান সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধির বিরোধিতা করেন এবং সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনী জোরদার করার এবং ওসামা বিন লাদেনের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর বিপক্ষে পরামর্শ দেন।

আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দেওয়ার পর তিনি ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরবের প্রতি আমেরিকার সমর্থন বন্ধ করার পক্ষেও মত তুলে ধরেন।

ছবিতে নাতনী নাওমি বাইডেন এর সাথে জো বাইডেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব