1. admin@voicectg.com : admin :
মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:১৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
চিম্বুকে ৫ তারকা হোটেল নির্মাণের প্রতিবাদে উত্তাল পার্বত্য ৩ জেলা | যুবলীগ যদি মাটে নামে ওস্তাদ দৌড়াইয়া কুল পাবেননা-চট্টগ্রামে নিক্সন চৌধুরী অবশেষে ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর আগামী সপ্তাহে শুরু | হাজী সেলিমের স্ত্রী গুলশান আরা মারা গেছেন | যুদ্ধাপরাধী জামাত হেফাজতের ব্যানারে একত্রিত হচ্ছে-শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল | আমরা কোনভাবেই মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে নয়, ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে | চার দিন ধরে নিখোঁজ রাঙ্গুনিয়ার সেই আকাশ শীল | চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন না করার ঘোষণা দিলেন ডাঃ শাহাদাত | ভয়েস সিটিজি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এক হলে মৌলবাদী গোষ্ঠী লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যাবে-নওফেল | ছাত্র লীগের বিক্ষোভের মুখে হাটহাজারীতে আসেননি মামনুল হক | ভয়েস সিটিজি

স্বাধীনতার ৫০ বছরেও নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাজাপালং র অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ |

সম্পাদকীয়
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ৮৩ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী সমীপে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডবাসীর আকুল আবেদন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্র এলাকাবাসীকে রক্ষা করুন, নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিন।

সম্পাদকীয়ঃ ক্ষমতার পালাবদল হয়, গ্রামের মানুষ বা ভোটারেরাও মত পাল্টয় শুধু এলাকার উন্নয়নকাজ দেখার জন্য। কিন্তু জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন আর কপালে জুটেনা কক্সবাজার উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের রেজুরকুল, পিনজিরকুল, তুতুরবিল সহ প্রায় ৬-১০টি গ্রামের অধিবাসীদের।
যেকোন মুহূর্তে সেই কাঠের সাকুটিও ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

সারাদেশে বিভিন্ন নাগরিক সেবা সহ যোগাযোগব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নয়নের কথা শুনলেই ঈর্ষা হয় আমার। কারণ সেই অভাগা অজপাড়া গ্রামেই আমার জন্ম, আর জন্মের পর সাধারণ মানুষের জনদূর্ভোগ দেখে দেখেই বেড়ে উঠেছিলাম। ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতাম টাকা আয় করে প্রথমে গ্রামে রেজুখালে দুইটা ব্রিজ, একটা হাসপাতাল ও একটা হাইস্কুল ও কারিগর কলেজ করব। তা এখনও সাধ্য হয়নি।

গ্রাম থেকে বের হতে হলেই সেই নৌকা দিয়ে পার হওয়া আর পরে এলাকাবাসীর অর্থায়নে বাঁশের সাঁকো। এরপরে এলাকাবাসীদের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত সাঁকো,
এই থেকে বাঁশ কাঠের সমন্বয়ে তৈরি ঐতিহাসিক ব্রিজ। যার প্রতি বছর এলাকাবাসীরাই সংস্কার করে, প্রতিনিধিরা ভোটের সময় ব্রিজ সংস্কারের নামে চাঁদা দিয়ে যায় বলে শুনা যায়।

নেতারা প্রতিটি নির্বাচনে এসে সবাই প্রতিশ্রুতির পর প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায় উক্ত ছোটখালে ব্রিজ করে দিবে। বিএনপির সময় নেতারা এসে কমকরে হলেও দশবার প্রতিজ্ঞা করেছিল, অনেকবার বলেও গিয়েছিল টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু পরে দেখি খবর নাই। জিজ্ঞাসা করলে বলে, বাজেটে বরাদ্দ নাই। কিন্তু খালি যায়গায় ব্রিজ করার বাজেট ছিল। যেখানে সেখানে রাস্তা কেটে কালভার্ট করার বাজেট ছিল কিন্তু প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষের জীবনের জন্য ছোট্ট একটি খালে ব্রিজ করার বাজেট বা অর্থ ছিলনা। একদিকে ছোট্ট একটি ব্রিজ করেছে তাও শুভংকরের ফাঁকি। নেতারা ধোকার পর ধোকা দিয়েই যাচ্ছে। চাটুকারেরা আবার তাদের পা চেটেই যাচ্ছে। ধান্ধাবাজরা নেতাদের দিয়ে ধান্ধা করেই যাচ্ছে, মাগার এলাকার উন্নয়নের চিত্র কেউ দেখাতে পারেনা।

সম্প্রতি আইএনজিও’র অর্থায়নে নাকি এলাকায় পাকা সড়ক হচ্ছে, সেখানেও ধান্ধাবাজী লক্ষ্য করা গেছে। পাকা সড়ক করার জন্য পাহাড়ের মাটি কেটে এনে বালি হিসেবে চালিয়ে দিয়েছে। পুরো কাচা একটি সড়ককে পাকা করার সঠিক বা কোন উপায় অবলম্বন করেনি। সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, রাস্তায় বালির পরিবর্তে মাটি দেয়ায় গেল বর্ষায় এক হাটু পরিমান কাদায় গাড়িতো দূরের কথা মানুষদের হাটাচলাই দায় হয়ে যায়। এসব কাজের তথ্য নিতে গিয়ে নিজেই হতবাক। কথায় আছে, বাইন্ন্যারা নাকি মায়ের সোনাও চুরি করে। যে রাস্তা নির্মিত হচ্ছে সেটা একদিকে কাজ শেষ হওয়ার আগে অন্যদিকে ভেঙ্গে যাওয়ার শঙ্কা করছে নিম্নমানের কাজের জন্য। তবে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ করলে আইএনজিও নাকি কাজ বন্ধ করে দিবে এই ভয় দেখিয়ে কাজ যেভাবে হচ্ছে তা চলমান রাখার জন্য নেতারা আহ্বান জানিয়েছে।

এলাকায় উন্নয়নকাজ চোখে না পড়ার কারন হিসেবে;

১) কিছু এলাকাবাসী মনে করেন, রাজাপালং ও রত্নাপালং এর সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় প্রায় ৫টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ নূন্যতম নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।

২) আবার কিছু লোক মনে করে যোগ্য নেতৃত্ব নাই বলেই হয়নি।

৩) আবার আমার মত অনেকেই মনে করে, ধান্ধাবাজ ও দালালদের কারনেই হয়ে উঠেনি। টাকা দিয়ে ভোট কেনাবেচা।

স্বাধিনতার ৫০ বছর হয়ে যাচ্ছে আশেপাশের সব এলাকায় উন্নতি দেখা যায়, এমনকি রাজাপালং এর অন্যান্য এলাকায় অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু বৌদ্ধদের এলাকার ভাগ্য ফিরেনি কিঞ্চিৎ পরিমান যা হয়েছে যা করছে বৌদ্ধরা নিজের সহায় সম্পত্তি বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি দিয়ে। সরকারী সুবিধা বলতে শুধু প্রাইমারি স্কুলকে সরকারী করা হয়েছে। তাও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আওতায় পড়েছিল, নইলে কোনদিন হতোনা। দেশের উন্নয়ন হয় খরগোশের গতিতে আর রাজাপালং এর এইসব এলাকার উন্নয়ন হয় কচ্ছপের গতিতে। এসব গ্রামে অদ্যবদি পায়নি হাসপাতালের সুবিধা, পায়নি শিক্ষা সুবিধা সহ নানাবিধ নাগরিক সুবিধা। বিদ্যুৎ থাকেনা দিনে ৪-৫ ঘন্টা, ট্রান্সফরমার চুরি হলে একাধারে ২-৩ মাস বিদ্যুৎ থাকেনা। পরে এলাকাবাসী চাঁদা তুলে ভিক্ষে করে ৪০-৪৫হাজার টাকা পল্লীবিদ্যুতকে দিলেই বিদ্যুৎ পায়। বিচার চাইলে গেলেও হাকিমের কাছে ষ্ট্যাম্প করা ও বিরাট অংকের টাকা না হলে বিচার নাই। বিচার যাদের কথামত হয় তাদের অপরাধী কার্যক্রমের বিচার অদ্যবদি হয়নি। সবক্ষেত্রেই দূর্নিতিবাজদের দৌরাত্ম্য। মগেরমুল্লুক না দেখলেে রাজাপালং ঘুরে আসাই যথেষ্ট।

সরেজমিন ঘুরলে দেখা যাবে, যেকোন রোগীকে এখনও আদিমপন্থায় বহন করতে হয় কিংবা মরতে হয় বিনা চিকিৎসায়। হাই স্কুলে যেতে হয় প্রায় ৫/৮/১০ কিঃমিঃ পথ পায়ে হেটে। বর্ষা মৌসূমে স্কুলে যাওয়ার কষ্ট দেখলে মনে হয় এসব গ্রামের লোকজন অন্যান্য গ্রামের চেয়ে ৫০বছর পিছিয়ে আছে। এলাকার নিরীহ মানুষ এই সরকারে আমলে এরই মধ্যে রাস্তার বিস্তৃতি পেয়ে মহা খুশি। কারণ তাদেরভাগ মানুষ দেশের সরকার কি কি নাগরিক সুবিধা দিয়েছে আর জনপ্রতিনিধিরা এসব অজপাড়া গ্রামে কি কি দিতে পেরেছে, তার হিসেব নেয়ার বা দাবী করার কেউ নেই।

অতীতের আরাকান রাজাদের বসতিস্থল যেখান থেকে তারা রাজ্য শাসন করতো আজ কালের বিবর্তনে সেই রাজাপালং এর সেই জনপদই শিক্ষা বঞ্চিত ও অবহেলিত। এলাকায় হাতেগুনা দুইতিনজন মাস্টার্স ডিগ্রিধারী আছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলের বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশে এখনও দেশের শিক্ষা দীক্ষায় অনুন্নত এইখানকার অনেক গ্রাম অজপাড়া গ্রামের এক অনন্য উদাহরণ বটে।

নাগরিক অধিকার চাইবে কে? এইখানে কেউ অধিকার আদায় করে নিবে এমন সাহস আছে কার? যাদের আছে তারাও টাকায় কেনা হয়ে যায়, পাচাটা গোলাম। সরকারের দোষতো নাই। সরকারের কানে পৌঁছে দেয়ার বাহকরা তো, এসব পাচাটা লোকদের উপর নির্ভর করেই এই এলাকার উন্নয়ন আরেক এলাকায় নিয়ে যায়। তাই তারা সেবা নয়, বাটপারি করতেই ব্যস্ত। এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবী আদায় করার লোক নেই আছে চামচাগিরি করার লোক। ভোটে টাকা ভাগাভাগির লোক।

যোগাযোগব্যবস্থার কারনেই এই গ্রামে এখনও উন্নয়নের ছোঁয়া পায়নি। এলাকায় মাদকের করাল গ্রাসে নষ্ট হয়েছে যুব সমাজ। কিশোরেরাও বড়দের দেখেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কঠিন এক পরিস্থিতিতে পুরো এলাকা, যেন দেখার কেউ নেই। খায় দায় ঘুমায়, নেই কোন সমাজ উন্নয়নের তাগিদ। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উক্ত এলাকায় প্রবেশ করতে অনেক সময় লাগে, তাই আশেপাশের গ্রাম ও পাহাড়ি এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নির্ভিঘ্নে চালিয়ে আসছে যুগেরপর যুগ। তাই পুরো এলাকাটাই দুই তিনটে সন্ত্রাসী গ্রুপের কাছে পুরো জিম্মি।

এমন কোন অপরাধমূলক কাজ নাই এই গ্রুপ গুলো করেনা। বলতে গেলে পুরো উখিয়া থানার সব কন্টাক্ট কিলিং, ভাড়াটে সন্ত্রাসী এবং গুন্ডাবাহিনী দ্বারা পুরো উপজেলা নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু স্থানীয় সব নেতারা তাদের ব্যবহার করছে। জায়গা জমি দখল নিতে এসব গ্রুপের গুন্ডাবাহিনী ছাড়া উপায় নেই। আর এসব বাহিনীর যেন অলিখিত বৈধতা আছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এসব গুন্ডাবাহিনীরা শুধু ভাড়ায় খাটেনা কিংবা দখলবাজি ও জবরদখল করেনা বরং বিচার আচারেও তাদের কন্টাক্ট করে নেয়া হয়। এলাকার প্রশাসনের নাকের ঢগায় তাদের অপকর্ম করছে কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলার সাহস করেনা। কারন তারা এলাকার বড়বড় নেতাদেরকে বহাল তবিয়ৎ ও পরোক্ষভাবে সহযোগীতায় পরিচালিত হয়। স্থানীয়দের মতে এসব বাহিনী ছাড়া নেতারা অচল। এসব বাহিনীর কোন দলনেই, আগে বিএনপি জামায়াতের বাহিনী হিসেবে কাজ করতো আর এখন সুযোগ সন্ধানী। বৌদ্ধ বিহার বা মন্দির পুড়ানো ও ভাঙ্গার ঘটনায় তারা প্রকাশ্যে দিবালোকে করেছে কয়েকজন আসামিও হয়েছে। অজ্ঞাতকারনে তারা আবার জামিন পেয়েছে।

দেশের সর্বত্র আইন শৃঙ্খলা ও সহ যোগাযোগব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নতি লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু এই এলাকায় তার কানা কড়িও পৌঁছেনি। সর্বোপরি নাগরিক সেবা সহ যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি। ডিজিটাল বাংলাদেশে সুফল আমরা কিছুটা হলেও পাওয়ার জন্য আওয়ামীলীগ সরকারের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি।

স্হানীয় বাসিন্দা সাংবাদিক প্রদীপ বড়ুয়া জয় (এশিয়ান টিভি, ঢাকা) সম্পাদক ও প্রকাশকঃ বাংলা সময় (জাতীয় অনলাইন পত্রিকা); চেয়ারম্যান ও সিইওঃ গণ টিভি (আইপি টিভি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

প্রযুক্তি সহায়তায় ইন্টেল ওয়েব